অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও সরকারি সম্পদ সংরক্ষণের ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক
- আপলোড সময় : ০৩-০১-২০২৬ ০৯:২৬:৫৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৩-০১-২০২৬ ০৯:২৬:৫৪ পূর্বাহ্ন
দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল আর অনিয়মের বেড়াজাল ছিন্ন করে সুনামগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র লঞ্চঘাট এলাকার প্রায় ৩১ শতক সরকারি খাস জমি উদ্ধার করেছে জেলা প্রশাসন। প্রায় ১০ কোটি টাকা বাজারমূল্যের এই সরকারি ভূমি উদ্ধার শুধু একটি প্রশাসনিক অভিযান নয়, এটি আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনস্বার্থ রক্ষার একটি সাহসী দৃষ্টান্ত।
বছরের পর বছর ধরে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সরকারি জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। এর ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও জনসেবামূলক উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। লঞ্চঘাট এলাকায় ঘাটলা নির্মাণ পর্যন্ত সংকীর্ণ করে দিতে হয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। এই বাস্তবতায় জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। আমরা জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এছাড়া বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, সংবাদমাধ্যম ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ভূমিকা; যাঁদের নিরলস প্রচেষ্টায় অবৈধ দখলের বিষয়টি জনসমক্ষে আসে এবং প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার হয়। তবে এই উচ্ছেদ অভিযানের মধ্যেই একটি দুঃখজনক দিকও সামনে এসেছে। উচ্ছেদের আগের রাতে সরকারি জমির অন্তত ১৪টি গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে -দখলদাররা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সম্পদের প্রতি নির্মম আচরণ করেছে। শুধু ভূমি উদ্ধারই নয়, সরকারি জমিতে গাছ কর্তনের মতো অপরাধের ক্ষেত্রেও দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। এতে ভবিষ্যতে কেউ এমন দুঃসাহস দেখানোর সাহস পাবে না।
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- উদ্ধারকৃত এই মূল্যবান ভূমির যথাযথ ব্যবহার কী হবে? আমরা মনে করি, লঞ্চঘাট এলাকার এই জমি জনবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নে ব্যবহার করা উচিত। পার্শ্ববর্তী রিভারভিউয়ের সঙ্গে লঞ্চঘাট এলাকার সংযোগ স্থাপন করা গেলে শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে, পর্যটনের সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে লঞ্চঘাট এলাকার খেয়াঘাটে একটি আধুনিক যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা সময়ের দাবি। এতে প্রতিদিন হাজারো যাত্রীর দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং নদীকেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে।
লঞ্চঘাটের জমি উদ্ধার প্রমাণ করে- চাইলেই সরকারি ভূমি রক্ষা করা সম্ভব, যদি থাকে প্রশাসনিক সদিচ্ছা ও জনসমর্থন। এই উদ্যোগ যেন একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা না হয়ে ওঠে; বরং সুনামগঞ্জসহ সারাদেশে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও সরকারি সম্পদ সংরক্ষণের ধারাবাহিক দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় - এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়